মেনু নির্বাচন করুন

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মেহেরপু্র।

১৯৪৮ সালে কুষ্টিয়াকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হলেও মেহেরপুর মহকুমার মর্যাদা কর্তন করে সদর থানা হিসেবে চিহ্নিত করে চুয়াডাংগার সংগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গাংনীকে কুষ্টিয়া সদর মহকুমার সংগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর কিছুদিন পর গাংনীকে পুনরায় চুয়াডাংগার সংগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মেহেরপুর মহকুমা বিলুপ্তির পর মেহেরপুরবাসীকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ১৯৫২ সালে গভর্ণর জাকির হোসেনের সময়ে মেহেরপুর পুনরায় মহকুমার মর্যাদা ফিরে পায়।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ মেহেরপুর মহকুমাকেও বিভক্ত করেছে। পূর্বে উলি­খিত ০৫টি থানার মধ্যে সদর ও গাংনী নিয়ে মেহেরপুর মহকুমা কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়, অন্যদিকে অন্য ০৩টি থানা পশ্চিম বঙ্গের অংশে পরিণত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের আইনানুগ বৈধতা প্রদানের জন্য আনুষ্ঠানিক সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মেহেরপুর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার এক গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ও প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠিত হয় মেহেরপুর সদর উপজেলার (বর্তমানে মুজিবনগর উপজেলার) বৈদ্যনাথতলার ঐতিহাসিক আম্রকাননে। কার্যত স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রশাসন ব্যবস্থা এখান থেকেই শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে মেহেরপুর দেশের একটি মহকুমা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর মহকুমা থেকে  জেলায় উন্নীত হয়। মেহেরপুর মহকুমায়  মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানা অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরবর্তীতে ২০০০ সালে সদর উপজেলা বিভক্ত হয়ে সদর ও মুজিবনগর উপজেলা গঠিত হয়। বর্তমানে মেহেরপুর জেলা মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর এ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত।


Share with :

Facebook Twitter