মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কৃষি

মেহেরপুর জেলায় এ পর্যন্ত কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। কৃষিই এ জেলার প্রধান সম্পদ। অসম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। প্রাচীন কালে শুধুমাত্র নদীপথ ও কাঁচা সড়ক পথে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা স্টেশন সংযুক্ত হয়। দেশ বিভাগের পর মেহেরপুর সবদিক থেকেই সংকুচিত হয়ে পড়ে। নদীপথ বিলীন হয়ে গেছে। শুধুমাত্র সড়ক পথেই মেহেরপুর আসা যায় কিন্তু বের হওয়া যায় না। এখান থেকেই ফিরে যেতে হয়। জেলার মানুষের বিকল্প কোনও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকাতে আদিম অর্থনৈতিক কর্ম হিসেবে কৃষিই একমাত্র পেশা। উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ু সবসময় অর্থনৈতিক কর্ম হিসেবে কৃষিই একমাত্র পেশা। উর্বর মাটি ও অনুকুল জলবায়ু সবসময় সহায়তা করছে। কৃষিশস্য, মৎস্য, সবজি এবং গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্রে মেহেরপুরের মানুষ সব সময় এগিয়ে। কৃষির এই অগ্রসরতার কারণে জেলার কৃষির সাথে জড়িত কৃষকের ওপর নেমে এসেছে বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন নিপিড়ন। বর্গিদের আগমন ও শস্য লুট, সুলতানদের অতিরিক্তি শস্যকর এবং শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের নীলচাষের বেদনাদায়ক ইতিহাস সেই কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়। পদ্ধতিগত দিক থেকে মেহেরপুরের কৃষি এখনও সনাতন তবে কছিু আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ হচ্ছে ইদানিং।

১৯৩৮ সালে ফ্লাড কমিশনের রিপোর্টে জানা যায় এই অঞ্চলের ২৯% লোকই ভূমিহীন এবং ৪০% লোকের জমি আছে এক একরের কম। গড় হিসেবে শতকরা ২৫ ভাগ লোক ১ বিঘা পরিমাণ জমির মালিক। এই অঞ্চলের বিত্তবানদের প্রচুর পরিমাণ জমি থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার ছিল না। আবার অধিক লোকের কম পরিমাণ জমি থাকলেও যথাযথ কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে কৃষককুলে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের উপস্থিতি প্রাচীনকাল থেকেই প্রকট। মধ্যবিত্তের কৃষির ধরণই ভরণ-পোষণ যোগ্য। এক কথায় খেয়ে পরে বাঁচা।

কৃষির ধরণঃ

প্রাকৃতিক ঋতুনির্ভর কৃষির বৈশিষ্টই জেলার কৃষির অন্যতম ধরণ। প্রাচীনকাল থেকেই বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করেই আবর্তিত হয়েছে পর্যায়ক্রমিক কৃষি। শুষ্ক মৌসুমে আউশ, বর্ষ মৌসুমে আমন শীতকালীন জলজমির বোরো আবাদ। মৌসুম ভিত্তিক ফসল ো শস্য। ৬০ এর দশকে রোপা আমন ও ইরি আবাদ, ৭০ দশকে আলু, গম আবাদের মাধ্যমে ভূমিতে সীমিত পর্যায়ে সেচকাজ শুরু হয়। অধিক উৎপাদনশীল এই ফসল উৎপাদনের জন্য সচে অন্যতম উপাদান ফলে নদী, খাল-বিল থেকে সেচের মাধ্যমে কৃষকরা কায়িকশ্রম দিয়ে জমিতে সেচকাজ চালাতো। আধুনিক ফসলের ব্যাপক প্রষারের ফলে বর্তমানে জমিতে সারা বছরই আবাদ হচ্ছে। ফলে ঋতু নির্ভরতা ফসলের আবাদ নেই বললেই চলে। শস্যের ধরণ, মাটির বৈশিষ্ট্য, উদ্ভিদ বৈশিষ্ঠ উদ্ভিদের আকা, সহনশীলতা, জলবায়ু, পানির প্রাপ্যতা ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্টের কারণে মেহেরপুরে চাষাবাদে এখন বিপ্লব এসেছে।